• আজ

    দেশকে তামাকমুক্ত করতে হবে : ডেপুটি স্পিকার

    দেশকে তামাকমুক্ত করতে হবে : ডেপুটি স্পিকার

    গাজীপুর টিভি ডেস্ক | ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশকে তামাকমুক্ত করতে কাজ করে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি আন্দোলন করে কখনো খালি হাতে ফেরেনি, তাই তামাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও তারা খালি হাতে ফিরবে না। তামাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে তামাকের বিরুদ্ধে রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে সাধ্যানুযায়ী ভূমিকা রাখতে হবে।

    আজ বুধবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি, সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার, শিরীন আখতার ও বাসন্তী চাকমা বক্তব্য রাখেন।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে মাদকমুক্ত করা প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তামাকমুক্ত করতে পারবো। দেশে তামাকবিরোধী ঝড় উঠেছে, এখন শুধু এই কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা ২৩ বছর সময় নিয়েছি মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করতে, বিজয় লাভ করেছি ৯ মাসে। কাজেই ধৈর্য ধারণ করে সঠিক কাজটি করে যেতে হবে।

    তিনি বলেন, শুধু আইন করে দেশকে মাদকমুক্ত করা যাবে না, এর সঙ্গে পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা ও নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তামাকবিরোধী আইন পাস হওয়া সময়ের ব্যাপার।

    শামসুল হক টুকু বলেন, করোনার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আমরা ব্যয় করেছি, অথচ তামাকের চেয়ে ১৬ গুণ অধিক মরণঘাতী ব্যাধি নিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে আমরা অনেকেই উদাসীন। এটি রোধে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    তামাকবিরোধী অবস্থানে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি একবার দলীয় কমিটি গঠনে ডোপ টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ রিপোর্টধারীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। এছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে কাজ করেছি, বর্তমানে বিধানটি চালু রয়েছে। এভাবে যার যেখানে মাদকবিরোধী কাজ করার সুযোগ আছে, সবারই তা করা উচিৎ।

    এসময় সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত-বাংলাদেশ ঘোষণার ২৫ বছর সময়সীমার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো ‘রোডম্যাপ’ তৈরি হয়নি। উপরন্তু, তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার এবং সরকারের প্রতিনিধি রয়েছে, যা দেশকে তামাকমুক্ত করতে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে এবং নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে। তবে আমাদের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার থাকায় সংসদীয় কার্যক্রমে আমরা আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবো। তামাকের পেছনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়তে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সিমিন হোসেন রিমি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এগুলো দূর করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল আরও অনেক বাড়াতে হবে। তামাকের বিকল্প হিসেবে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে হবে। দেশের ছাত্র সংগঠনগুলোকে তামাকবিরোধী কার্যক্রম গ্রহণসহ ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।

    ড. অরূপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ফেরদৌস ওয়াহিদ বক্তব্য রাখেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন মতিউর রহমান তালুকদার।

    Comments

    comments

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১